আবু মুসা মোহন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর):
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষ্মী গ্রামের হাওলাদার বাড়ির আজিজ আলী হাওলাদারের প্রায় তিন একর আয়তনের পুকুরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঘুম থেকে উঠে পুকুরের দিকে গিয়ে তারা দেখতে পান, পানিতে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠেছে। কিছু মাছ পানির ওপর সাদা হয়ে ভাসছিল। পরে মুহূর্তের মধ্যেই পুকুরের মাছ নিধনের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবারের অভিযোগ, মাছ নিধনের উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে পুকুরের পানিতে ‘রাজটক্স (Rajtox)’ নামে বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছে। আলামত হিসেবে পুকুরপাড় থেকে বিষের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। বিষ প্রয়োগের কারণে পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে এবং এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার দেবরের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে আমার পুকুরের মাছ নিধন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। সকালে উঠে দেখি পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে। আমরা অসহায়। এ ঘটনায় আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, “মাছ চাষ করেই আমাদের সংসার চলে। একসঙ্গে এত মাছ মারা যাওয়ায় আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাদের এক ছেলেকেও মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে থানায় গিয়ে মামলা করতে পারছেন না দাবি করে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে।
অভিযুক্ত শরফ আলী হাওলাদারের স্ত্রী কুলসুমা বলেন, পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি সত্য। তবে কে বা কারা গতকাল রাতে বিষ দিয়েছে, তা বলতে পারব না।”
স্থানীয়রা জানান, পুকুরে বিপুল পরিমাণ মাছ মরে যাওয়ায় পানি ও পুকুরপাড়ে মাছের স্তূপ দেখা যায়। বিষ প্রয়োগের কারণে মাছ মারা গেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা ও মৃত মাছ পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের দাবি, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হোক। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের ক্ষতিপূরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজ হাসনাইন বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে এখানে আমাদের কিছু করার নেই। যেহেতু বিষ প্রয়োগ করে মাছ মারা হয়েছে, এটি আইনগত বিষয়। ভুক্তভোগী থানায় বা আদালতে মামলা করলে সেই মামলার তদন্ত আমাদের ওপর এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হাজিমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আব্দুর রহিম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রকাশক: মো: জহির হোসাইন সম্পাদক: প্রদীপ কুমার রায়
আইন বিষয়ক উপদেষ্টা: এড. মোঃ আনোয়ার হোসেন
কার্যালয়: চায়না টাউন, ৫ তলা, নয়াপল্টন ঢাকা
কার্যালয়: গাজী কমপ্লেক্স, ৩য় তলা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর
www.deshdiganta.com