
প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি,
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় অবশেষে পুলিশের চৌকস অভিযানে চারজন সন্দিগ্ধ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনার ক্ষত এখনো দগদগে ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে ভুক্তভোগী পরিবারটির মনে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে মোঃ আহসান উল্লাহর বাড়িতে একদল অস্ত্রধারী ডাকাত প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ দরজা ভেঙে মুখোশধারীরা ঢুকে পড়ে, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবাইকে। চোখের সামনে নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ লুট হতে দেখা—এ এক অসহনীয় দুঃস্বপ্নের মতো। বৃদ্ধ আহসান উল্লাহ ও তার পরিবারের আর্তনাদও ছিল সে রাতে নিঃসঙ্গ, কারণ পাশের বাড়ির লোকজন ভয় পেয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি।
"আমরা জীবন ভিক্ষা চেয়েছিলাম, কিন্তু ওরা নির্দয় ছিল। আমার স্ত্রীর কানের দুল পর্যন্ত ছিনিয়ে নেয়," কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন আহসান উল্লাহ। ডাকাতদের হাতে শুধু অর্থ-স্বর্ণই নয়, ভয় আর আতঙ্কের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা রেখে গেছে এই পরিবারে।
ঘটনার পরপরই লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ সুপার ও ওসি বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। একের পর এক অভিযান চালিয়ে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা হলেন— ১. মোঃ দেলোয়ার হোসেন (২৫), কমলনগর, লক্ষ্মীপুর। 2. মোঃ মহিব উল্লাহ আলমগীর (৩২), চরজব্বার, নোয়াখালী। 3. মোঃ মমিন (২৪), চরজব্বার, নোয়াখালী।
4. মোঃ কবির (২৩), রামগতি, লক্ষ্মীপুর।
তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, "ডাকাতির ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাত-দিন এক করে কাজ করছে। যারা নিরীহ মানুষের সম্পদ লুটে নিচ্ছে, তারা সমাজের শত্রু। আমরা জনগণের পাশে আছি এবং থাকবো।"
যদিও আসামিরা গ্রেফতার হয়েছে, তবু এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। আহসান উল্লাহর পরিবার পুলিশের ভূমিকায় কৃতজ্ঞ, তবে এখনো রাতে ঘুমাতে ভয় পান তার স্ত্রী ও সন্তানরা। তারা সরকারের কাছে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হতে না হয়।
ডাকাতির মতো অপরাধ নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সচেতনতা আরও জরুরি। স্থানীয় জনগণকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানো উচিত। অপরাধীদের রুখতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
একটি প্রশ্ন থেকে যায়—এই গ্রেফতার কি সমাজ থেকে ডাকাতির আতঙ্ক মুছে ফেলতে পারবে? নাকি আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন?
প্রকাশক: মো: জহির হোসাইন সম্পাদক: প্রদীপ কুমার রায়
আইন বিষয়ক উপদেষ্টা: এড. মোঃ আনোয়ার হোসেন
কার্যালয়: চায়না টাউন, ৫ তলা, নয়াপল্টন ঢাকা
কার্যালয়: গাজী কমপ্লেক্স, ৩য় তলা, রায়পুর, লক্ষ্মীপুর
www.deshdiganta.com