প্রদীপ কুমার রায়: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মরণে গানের সুরে, কবিতার উচ্চারণে আর মননের আবেশে চাঁদপুরে হয়ে গেল এক হৃদয়ছোঁয়া সাংস্কৃতিক মিলনমেলা— “নজরুল সন্ধ্যা”।
গত ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৬টায় জয়ধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তনের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সংগঠক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান প্রধানীয়া। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন সংগীতশিল্পী ও সংগঠক সুদীপ কর তন্ময়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুজিত মোস্তফা এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ কবির পলাশ। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নজরুল চর্চার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও একটি সুসংগঠিত জেলা কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা ও মানবিক দর্শন ছড়িয়ে দিতে শিল্পীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন ও সৃষ্টির প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে মূল আলোচনা করেন জয়ধ্বনি সংগীত বিদ্যায়তনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তাপসী রাণী ভৌমিক। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রকৌশলী ফারুক বিন জামান, অ্যাডভোকেট পলাশ মজুমদার, অ্যাডভোকেট মানিক দেবনাথ ও অ্যাডভোকেট শ্যামল সাহা। বক্তারা বলেন—নজরুল শুধু কবি নন, তিনি বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা ও সাম্যের এক চিরজাগ্রত ধ্বনি; যার সৃষ্টিচর্চা আজও প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস।
পর্বে পর্বে দলীয় ও একক সংগীত পরিবেশনায় মঞ্চ মাতান মধুরিমা আচার্যি, অর্পিতা রক্ষিত, পার্বতী চক্রবর্তী, মোর্শেদ খান জয়, আশিষ সরকার, শুভ্র রক্ষিত, প্রদীপ চন্দ্র দাস, সুদীপ কর তন্ময়, মজিবুর রহমান প্রধানীয়া প্রমুখ শিল্পীরা। নজরুল সংগীতের সুরে-তালে মিলিয়ে দর্শকশ্রোতারা ফিরে যান কবির বর্ণিল সৃষ্টিভুবনে।
মতবিনিময় পর্বে সংগীত শিল্পী পরিষদের সদস্য সুদেব চন্দ্র আচার্য্য, বিপ্লব চন্দ্র দাস, মো. আজাদ হোসেন, মিলন হালদার, আমানউল্লাহ আমান, বলাই চন্দ্র সরকার, কার্তিক সরকার, মো. সোলাইমান, ফৌজিয়া হোসেন পুতুল, সুমিতা পাল, বিপাশা তালুকদারসহ অনেকে বক্তব্য দেন। ভবিষ্যতে নিয়মিত নজরুল চর্চা বিস্তারে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে পুরো মিলনায়তন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়। নজরুলের গান, কবিতা ও রচনাবলীর ভাণ্ডার ছড়িয়ে দিয়ে সাম্য ও মানবিক চেতনা জাগ্রত রাখার প্রত্যয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে প্রয়াত সংগীত গুরু স্বপন সেন গুপ্তের স্মরণে শোকবাণী পাঠ ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নজরুল সন্ধ্যার পুরো আয়োজন তাঁকে শ্রদ্ধাভরে উৎসর্গ করা হয়।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আবেগঘন এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সমাপ্তি ঘটে—যেন কবির কথাই প্রতিধ্বনিত হয় সবার কণ্ঠে, “মোর প্রভাতে আঁধার কাটুক, গাহি সাম্যের গান।”