দেশ দিগন্ত ডেস্ক :-জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেছেন।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ওই বার্তার পর থেকেই তার সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু মানুষ শঙ্কা প্রকাশ করে পোস্ট দেন।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।
পরবর্তীতে গত সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার ভাইসহ বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সদের একটি টিম। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে যান।
শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মূল অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা মোসা. হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও রয়েছেন— মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, আব্দুল হান্নান, মো. হিরন, মো. রাজ্জাক, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং হালুয়াঘাট সীমান্তে মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিম।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।