প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি:
দক্ষ কৃষকই হবে আগামীর সফল উদ্যোক্তা। কৃষককে যদি জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির শক্তিতে সমৃদ্ধ করা যায়, তবে কৃষক শুধু ফসলই ফলাবেন না—নিজের ভাগ্য গড়বেন। পরিবারকে এগিয়ে নেবেন এবং সমাজের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।
সোমবার ২৭ এপ্রিল সকালে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার টাকুয়ারচর কারীবাড়ি হুজুর মসজিদ মাঠে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ‘পিএফএস (পার্টনার ফিল্ড স্কুল) কংগ্রেস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে কৃষক সমাজ আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ সাইফুল ইসলাম, কৃষি প্রকৌশলী আসমা আক্তার এবং কৃষক প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষক প্রতিনিধি মাহমুদ মাহমুদ বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের প্রাণশক্তি। কৃষকদের সম্মান, প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে গ্রামের তরুণরাও কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণে আগ্রহী হবে। তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর দক্ষ কৃষক গড়লে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে উঠবে।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মোঃ সাইফুল ইসলাম ও কৃষি প্রকৌশলী আসমা আক্তার বলেন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। পিএফএস কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, রায়পুরে পিএফএস কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
এসময় ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে সেক্স ফেরোমন ট্র্যাপ ও হলুদ ট্র্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া বাড়ির আঙিনা ও ছাদবাগানে লাভজনকভাবে আদা, মরিচ ও বেগুন চাষের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।
পরে বিভিন্ন পিএফএস গ্রুপ তাদের সফলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পরে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে সফল কয়েকজন কৃষক ও কৃষাণীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রদর্শনী ও মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পিএফএস সদস্য, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।