June 29, 2026, 7:52 pm
শিরোনাম:
রায়পুরের চার খুনে রহস্যের জট কাটেনি! চার দিনেও মেলেনি হত্যার মোটিভ! রায়পুরে বামনি–কবিরহাট–রবিদাস সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ চারটি কবর, নিঃসঙ্গ কিশোরকে তাড়া করে ফিরছে সেই রক্তাক্ত সকাল লক্ষ্মীপুর রায়পু‌রে মা মে‌য়েসহ একই প‌রিবা‌রের ৪ জন‌কে গলা কে‌টে হত‌্যা, গণ ধোলাইয়ে ঘাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক !  রায়পুর পৌরসভার বাজেট সভা অনুষ্ঠিত যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বারোপ রায়পুরে পল্লীমঙ্গল কর্মসূচির বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, সেবা পেলেন পাঁচ শতাধিক রোগী রায়পুরে খাল উদ্ধার অভিযান: ৬১ স্থাপনা উচ্ছেদ, এবার কি মিলবে স্থায়ী সমাধান? লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ রায়পুরে মাকে মারধরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে রায়পুরে জনদুর্ভোগ নিরসনে মাঠে ইউএনও মেহেদী হাছান কাউছার
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

রায়পুরের চার খুনে রহস্যের জট কাটেনি! চার দিনেও মেলেনি হত্যার মোটিভ!

প্রদীপ কুমার রায়

 

প্রদীপ কুমার রায়, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) থেকে : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার চার দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, অভিযুক্ত একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন নাকি অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।

তদন্তের শুরুতেই অভিযুক্ত ও পরে গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের অতীত জীবন, পরিচয় গোপন করে বসবাস এবং নিহত পরিবারের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়ের বিষয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে। তবে এসব তথ্য এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাব্য কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাবে না।

গত ২৫ জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় পরিবারের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বাসার বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন অন্তর মজুমদার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ভবনে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে অন্তর একই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সে সময় তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিলেন। পরে পরিচয় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তাকে বাসা ছাড়তে হয়। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই ঘটনার পর ভবনের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

এ ঘটনার পর এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অস্থিরতা থেকে সৃষ্ট ক্ষোভ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে; কোনো বিষয়ই এখনো নিশ্চিত নয়।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়েকে পাশাপাশি চারটি কবরে দাফন করা হয়। নিহতের একমাত্র ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বলেন, “আমি মা ও তিন বোনকে একসঙ্গে হারিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। যদি অন্য কেউ জড়িত থাকে, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।”

এ ঘটনায় সিফাত বাদী হয়ে অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে গিয়ে সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ পৃথক আরেকটি মামলা করেছে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুর রাশেদ বলেন, “ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের আশা করছি।”

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া জানান, পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে তদন্তে এখন যেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—একজনের পক্ষে একাই চারজনকে হত্যা করা সম্ভব ছিল কি না, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, নিহত পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তের প্রকৃত সম্পর্ক কী ছিল এবং এর পেছনে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো বিরোধ কাজ করেছে কি না।

রায়পুরের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এই চার খুনের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্ত শেষ হলে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেটিও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

প্রদীপ কুমার রায়,
নিয়ে নিজস্ব সংবাদদাতা,
রায়পুর, লক্ষ্মীপুর।
মোবাইল: 01712659510


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা