July 22, 2026, 6:54 am
শিরোনাম:
রায়পুরে প্রবাসীর স্ত্রীর ওপর হামলা, ঘর ভাঙচুর ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ ‎ রায়পুরে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, আতঙ্কে এলাকাবাসী রায়পুরে প্রবাসীর বাড়িতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ বান্দরবানে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত: নির্যাতিত মুসলিম নারীকে উদ্ধার করে পাশে দাঁড়ালেন মারমা নারী ম্রানুচিং মারমা সরকারি উদ্যোগে ১৪শ বৈদ্যুতিক বাস আসছে ঢাকায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জোনাকি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ৬ আগস্ট মাসে প্রবাসী কা‌র্ডের পরীক্ষামূলক উদ্বোধন, মিলবে ১০টি বিশেষ সুবিধা আনারসের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন রায়পু‌রে জুলাই শহিদ দিবস উপল‌ক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী ২ নেতার উপ‌স্থি‌তি নি‌য়ে চল‌ছে নানা সমা‌লোচনা! বান্দরবানে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

চীন সফরে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার ‎

Reporter Name

‎ দেশ দিগন্ত  ডেস্ক:-
‎ বিশ্বের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ১২ থেকে ১৮ জুলাই এই ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি বেইজিং, সাংহাই ও চেংদু শহরে সরকারি ও বাণিজ্যিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মূল উদ্দেশ্য—চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যদিও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ইস্যু এই সম্পর্কের পেছনে ছায়া ফেলেছে।



‎এই সফরটি আলবানিজের দ্বিতীয় চীন সফর হলেও, মে ২০২৪ সালে পুনঃনির্বাচনের পর এটি তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয়—অঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা।



‎উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার মোট রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশের গন্তব্য হলো চীন, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলবানিজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, “চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মানে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মসংস্থান।” তার নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় উৎপাদন শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে।



‎এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন ম্যাককুয়ারি ব্যাংক, এইচএসবিসি, রিও টিন্টো, বিএইচপি এবং ফরটেস্কিউ-এর মতো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সফরের একটি মূল দিক হচ্ছে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই প্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানো।



‎তবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ সহজ নয়। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস চীনের বিপুল সামরিক শক্তি বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেন এবং তাসমান সাগরে চীনা মহড়াকে “অস্বাভাবিক” বলে আখ্যা দেন। এসব উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া-চীন সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেমস লরেন্সসনের মতে, “দুই দেশই জানে মতপার্থক্য থাকবে, তবে তা যেন সম্পর্ক নির্ধারণ না করে।”



‎তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল ও গঠনমূলক রাখলে ব্যবসা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতা সহজ হবে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সফর ওয়াশিংটনের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে হওয়া অকাস সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে চীনের আপত্তির কারণে।



‎চীন ইতিমধ্যেই অকাস চুক্তির সমালোচনা করেছে এবং এই সফরেও সেই ইস্যুটি আলোচনায় আসতে পারে। তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মতবিরোধগুলো চীন-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের অগ্রগতি থামিয়ে দেবে না। আলবানিজ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের কর্মকাণ্ড এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে কারাবন্দি অস্ট্রেলীয় লেখক ইয়াং হেংজুনের বিষয়ে মানবিক উদ্বেগও প্রকাশ করতে পারেন।



‎অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের প্রধান ব্রাইস ওয়েকফিল্ড এই সফরকে “পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল কূটনীতির উদাহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আগের মতো পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিবর্তে আরও বাস্তবমুখী আলোচনার দিকেই অগ্রসর হচ্ছে। তথ্যসূত্র : বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা