রায়পুর প্রতিনিধি:
সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ শিকার। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও একশ্রেণির অসাধু জেলে তা অমান্য করে নদীতে জাল ফেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সফলতা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় সুযোগ বুঝে মাছ শিকারে নামছেন কিছু জেলে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া এবং দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
কিন্তু সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেরা। প্রজনন মৌসুমে একটি মা ইলিশ নিধনের ফলে বিপুলসংখ্যক নতুন ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা নষ্ট হতে পারে। ফলে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার শুধু আইন অমান্য নয়, দেশের মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে
সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগ সামনে আসায় অভিযান ও তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে নদীতে জাল ফেলার সাহস পাচ্ছেন অসাধু জেলেরা? নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কতটা কার্যকর?