লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীতে অবৈধ ইলিশের অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ পাঁচজন। অভিযানে থাকা স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় তাঁরা আহত হন। হামলাকারীদের বাধার মুখে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে পার্শ্ববর্তী উপজেলার কোস্ট গার্ডের চারটি স্পিডবোট যুক্ত হয়েও হামলাকারীদের আটক করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) মেঘনা নদীতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীদের ছোড়া ইটের টুকরা তাঁর গায়ে পড়লে চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি সামান্য আহত হন।
তিনি বলেন, “হামলাকারীরা সংঘবদ্ধভাবে মুহূর্তের মধ্যে পাঁচ-ছয়টি নৌকা একত্র করে। তাদের নৌকায় আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৪০ জন লোক ছিল। তাদের অনেকের হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পার্শ্ববর্তী উপজেলার কোস্ট গার্ডের চারটি স্পিডবোট যুক্ত হওয়ার পরও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।”
অভিযান চলাকালে নদী থেকে বেশ কিছু অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া জালের মধ্যে আটকে থাকা কিছু জাটকা মাছ উদ্ধার করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ, জাটকা সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অভিযান চালাতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এমন হামলার ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীতে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ মাছ শিকারকারীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ও জোরালো অভিযান প্রয়োজন।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়।