October 23, 2026, 3:54 am
শিরোনাম:
স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর আকুতি, এক বছরের শিশুর মাথার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া সেবার হাত বাড়াতে রায়পুরে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের পরিচর্যা প্রশিক্ষণ কমলনগরে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযান, ৭ জেলের কারাদণ্ড দাম্মাম বিমানবন্দরে ফের হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ৮ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর দিনেই নতুন করে উদ্বেগ রায়পুরে হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মেডিকেল অফিসারসহ চার রোগী রায়পুরে বিরিয়ানির দোকানে ডিবির অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ রায়পুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া রায়পুরে দোকানের পিছন থেকে গাঁজার গাছ উদ্ধার, ব্যবসায়ী গ্রেফতার রায়পুর পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড যুব সংগঠনের ৩৯তম অনুদান প্রদান সম্পন্ন রায়পুরে বরই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে প্রকৃতি সেজেছে নবরূপে, বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখ‌ছেন কৃষক
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

রায়পুরে সড়কে গাছ, যান চলাচলে ভোগান্তি

Reporter Name

প্রদীপ কুমার রায়

দেশজুড়ে নিম্নচাপের প্রভাবে রায়পুরে ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপড়ে পড়া গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটির কারণে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। রায়পুর-লক্ষ্মীপুর, রায়পুর-রামগঞ্জ, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ও রায়পুর-মীরগঞ্জসহ পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে আছে। এতে বুধবার রাত থেকে এসব সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অফিসগামী মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, সকালবেলা বের হয়ে দেখি রাস্তায় বড় গাছ পড়ে আছে। কোনো রিকশা, অটোরিকশা চলতে পারছে না। হাঁটতেই হচ্ছে অনেকটা পথ । রায়পুরের চরবংশী নাইয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা বেপারি বলেন, আমার হায়দার গঞ্জে যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা সাধারণত ২০ মিনিটেই যাওয়া যায়। গাছ সরানো নিয়ে কারও যেন তাড়াহুড়ো নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ উপড়ে পড়ার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রায়পুর ফায়ার সার্ভিস ও পৌরসভার কর্মীরা সড়ক থেকে গাছ সরাতে কাজ শুরু করেন।

রায়পুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, বুধবার রাত থেকেই ঝড়ো হাওয়ায় একাধিক গাছ ভেঙে পড়ে। আমরা ভোর থেকে কাজ করছি। কিছু সড়ক এখনও বন্ধ আছে, তবে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

টানা বৃষ্টিতে উপজেলার চরবংশী, চর আবাবিল, সোনাপুর ও কেরোয়া ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বসতঘর, দোকান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। চর আবাবিলের এক গৃহবধূ বলেন, ঘরে পানি উঠেছে, চুলা জ্বলছে না। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কেউ দেখতেও আসছে না।

টানা তিন দিন ধরে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কাজও থমকে আছে।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জহির হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল চার্জ নেই, পানির মটর চলে না। রাতে মশার যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান খান জনকণ্ঠকে জানান, ঝড়ের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাছ অপসারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা