নিজস্ব প্রতিবেদক
*(তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ দেখুন প্রথম পর্ব )
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দখল, অনিয়ম ও প্রতারণার নানা অভিযোগ জমা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, মার্কেট নির্মাণ ও সম্প্রসারণের নামে সরকারি খাল এবং রাস্তার বড় অংশ দখল করে ফেলা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার তীব্রতা বাড়ছে। পথ সংকুচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে এবং যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা অভিযোগ করেন, মার্কেটে বৈধ মিটার ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যুৎ বিল ধার্য করে তা দোকানদারদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। বিল সংক্রান্ত কোন স্বচ্ছ হিসাব নেই এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়। মার্কেটের অভ্যন্তরে চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ করে নতুন দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত হলেও থামানো হচ্ছে না। এতে মার্কেটে নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদন যাচাই ছাড়াই ব্যাংকের নামে এটিএম বুথ বসানো হয়েছে। এসব বুথের নিরাপত্তা, বৈধতা এবং প্রকৃত মালিকানা নিয়ে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, লেনদেনের নামে এখানে অসংগঠিত আর্থিক কর্মকাণ্ড চলছে, যার সঠিক নজরদারি নেই।
মার্কেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এবং প্রভাবশালী সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মার্কেট পরিচালনার মাধ্যমে এ দু’জন দ্রুত আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। মানুষের ধারণা, শূন্য অবস্থা থেকে হঠাৎ সম্পদশালী হওয়ার পেছনে এই মার্কেটসহ আশপাশের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ভূমিকা রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তারা একাধিক প্রতিষ্ঠানে একই কৌশলে প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত এই মার্কেট এলাকা নানান অপরাধমূলক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। রাতের বেলা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা, বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন অপকর্মের পরিকল্পনা এখানেই হয়ে থাকত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।
তবে অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস শারীরিক অসুস্থতা দোহাই দিয়ে কথা না বললেও দেলোয়ার হোসেন মার্কেট পরিচালনা করতে কিছু অনিয়ম হতে পারে বলে দাবি করেন।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরকারি খাল ও রাস্তা দখলমুক্ত করা, মার্কেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছ তদন্ত, অবৈধ এটিএম বুথ অপসারণ, বিদ্যুৎ বিল আদায়ে বৈধতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা মনে করেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে চন্দ্রগঞ্জ নিউ মার্কেটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনিয়মের এই বিস্তৃত কাঠামো আরও ক্ষতিকর পরিণতি ডেকে আনবে।