June 8, 2026, 2:05 am
শিরোনাম:
রায়পুরে মাকে মারধরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে রায়পুরে জনদুর্ভোগ নিরসনে মাঠে ইউএনও মেহেদী হাছান কাউছার নতুন প্রজন্মকে ফুটবল উপহার, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা ছাত্রদল নেতা আব্দুল আল নোমানের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় যুব রেড ক্রিসেন্ট শিশু ফারাবি হত্যার বিচারের দাবিতে রায়পুরে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন রায়পুরে প্রতিবেশীর নির্যাতনে যমজ শিশু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন রায়পুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অ্যাডভোকেট রফিক উল্যাহ সোহাগের কনিষ্ঠ পুত্রের আকিকা সম্পন্ন রায়পুরে সপ্তর্ষি কালচারারএকাডেমীর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান রায়পুরে সপ্তর্ষি কালচারারএকাডেমীর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ‎রায়পুরে কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধের মৃত্যু
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

স্মৃতির আকাশে অম্লান এক নাম: খোকন ভাই

Reporter Name

প্রদীপ কুমার রায়

রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের প্রাঙ্গণে আজও ভোরের রোদ পড়লে অনেকের চোখে ভেসে ওঠে একটি পরিচিত মুখ—সদা হাস্যোজ্জ্বল, শান্ত, দায়িত্ববান। তিনি আমাদের সবার প্রিয় খোকন ভাই। আজ তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। সময়ের ক্যালেন্ডারে চারটি বছর পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির পাতায় তিনি যেন ঠিক আগের মতোই জীবন্ত।
খোকন ভাই ছিলেন রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাঁর পরিচয় কেবল একজন চালকেই সীমাবদ্ধ ছিল না—তিনি ছিলেন অফিসের প্রাণ, সহকর্মীদের আস্থার জায়গা, আর সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক।
দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
প্রশাসনিক কাজে ইউএনও’র সঙ্গে দিন-রাত ছুটে বেড়ানো ছিল তাঁর নিত্যদিনের দায়িত্ব। দুর্গম চরাঞ্চল, হঠাৎ পরিদর্শন, গভীর রাতের জরুরি সভা—কোনো পরিস্থিতিতেই তাঁকে ক্লান্ত বা বিরক্ত দেখা যায়নি। বরং দায়িত্ব পালনে ছিল এক ধরনের গর্ব, এক ধরনের আত্মতৃপ্তি। সহকর্মীরা বলেন, খোকন ভাই গাড়ি চালাতেন শুধু স্টিয়ারিং ধরে নয়, দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে। সময়ানুবর্তিতা, সততা আর আন্তরিকতা ছিল তাঁর চরিত্রের মূল শক্তি।

আমাদের প্রিয় সহকর্মী মাহবুব হোসেন রনির পিতা হিসেবে খোকন ভাই ছিলেন এক আদর্শ অভিভাবক। সন্তানের প্রতি দায়িত্ব, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং সততার শিক্ষা—এই মূল্যবোধগুলো তিনি জীবনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
চার বছর আগে তাঁর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো উপজেলা প্রশাসনের জন্য ছিল গভীর শোকের ঘটনা। সেদিন অফিসের পরিবেশ ছিল নিস্তব্ধ, ভারী। যেন একজন সহকর্মী নয়, পরিবারের একজন সদস্যকে হারিয়েছিল সবাই।

মৃত্যু মানুষকে শারীরিকভাবে দূরে সরিয়ে দেয়, কিন্তু তাঁর কাজ, তাঁর ব্যবহার, তাঁর ভালোবাসা থেকে যায় অমলিন হয়ে। খোকন ভাইয়ের স্মৃতি আজও রায়পুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি করিডোরে নীরবে কথা বলে।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—পদবী বড় নয়, বড় হলো নিষ্ঠা ও মানবিকতা। একজন চালক হয়েও তিনি হয়ে উঠেছিলেন সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।
আজ তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি মরহুম খোকন ভাইকে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা—তিনি যেন খোকন ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করেন।

খোকন ভাই, আপনি নেই—কিন্তু আপনার হাসি, আপনার দায়িত্ববোধ, আপনার মানবিকতা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
আপনি স্মৃতির আকাশে চির অম্লান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা