লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন কর্তব্যরত এক মেডিকেল অফিসারসহ চার রোগী। এ ঘটনায় হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের নিচতলার ১২১ নম্বর কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার পরপরই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিচে থাকা রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবন সংস্কার করা হয়। তবে সংস্কারকাজের কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে আবারও পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ হতে হাসপাতালে এসে এখন উল্টো জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটার আগেই ভবনটি নিরাপদ করতে এবং যথাযথভাবে সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামোগত ঝুঁকির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রোগী, স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা।