April 22, 2026, 2:36 pm
শিরোনাম:
চিকিৎসক সংকটে অচল হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে রায়পুরের দু’টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্ৰ মালয়েশিয়ায় ১৪ প্রবাসী শ্রমিকের বেতন হ‌তি‌য়ে নি‌য়ে লাপাত্ত‌া সুপারভাইজার রায়পুর কেরোয়া মোল্লারহাটে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু! আতংকে এলাকাবাসী রায়পুরে ফুটপাত দখল ও মূল্য তালিকা না থাকায় মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৯ হাজার টাকা ‎ রায়পুর চরপাতা থে‌কে গাঁজা ও ইয়াবাসহ ২ জন‌ গ্রেফতার কমলনগরে অটোরিক্সাসহ চোর চক্রের ৪(চার) সদস্য গ্রেফতার। রায়পুরে ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই সিসি ঢালাইয়ের কাজ: উর্ধ্বতন প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা আজ থেকে সারা দেশে শিশু‌দের হামের টিকা ‌দেওয়া হ‌বে তে‌লের পর বাড়লো গ‌্যা‌সের দাম! লক্ষ্মীপুর রামগতি‌তে বিশেষ অভিযানে২৪ ড্রাম অবৈধ জালানি তেল জব্দ! গ্রেফতর ১ জন
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

মালয়েশিয়ায় ১৪ প্রবাসী শ্রমিকের বেতন হ‌তি‌য়ে নি‌য়ে লাপাত্ত‌া সুপারভাইজার

দেশ দিগন্ত ডেস্ক

মালয়েশিয়ায় ১৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন হাতিয়ে নিয়ে এক সুপারভাইজারের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘ‌টে‌ছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া-তে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সেখানে কর্মরত ১৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতনের অর্থ আত্মসাৎ করে উধাও হয়েছেন এক বাংলাদেশি সুপারভাইজার। ঘটনাটি প্রবাসী কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই শ্রমিকদের বেতন প্রতি ১৫ দিন অন্তর সুপারভাইজারের মাধ্যমে প্রদান করা হতো। সেই প্রক্রিয়ায় চলতি মাসের ১৫ এপ্রিল শ্রমিকদের ১৫ দিনের বেতন হিসেবে মোট ৪০ হাজার রিঙ্গিত জমা দেওয়া হয় একটি ব্যাংক হিসাবে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সুপারভাইজার মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া-র নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মোহাম্মদ সহিবুর রহমান-এর ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ পাঠানো হয়। কিন্তু টাকা জমা হওয়ার পরপরই জাবেদ মিয়া পুরো অর্থ উত্তোলন করে শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। হঠাৎ করে বেতন না পাওয়ায় তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, কারণ প্রবাসে উপার্জিত এই অর্থের ওপরই নির্ভর করে তাদের পরিবারের জীবিকা।

সমস্যার সমাধানের আশায় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বাংলাদেশ হাইকমিশন-এ গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় থানায়ও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি জানার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে উপার্জিত এই অর্থ না পেলে তারা শুধু আর্থিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। দেশে থাকা তাদের পরিবারও এর সরাসরি প্রভাব ভোগ করবে। তাই দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে টাকা উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রবাসী শ্রমিকদের বেতন আত্মসাৎ বা প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থ লেনদেন এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে বেতন সরাসরি শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে প্রদান নিশ্চিত করা হলে এমন ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অধিকার এবং আর্থিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতারণার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা