আরিফ হোসেন রুদ্র রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ইদানিং সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসেই উপজেলায় পাঁচটি বড় দুর্ঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার বেহাল অবস্থা, বেপরোয়া যানবাহনের চলাচল, অদক্ষ চালক এবং প্রশাসনিক তদারকির অভাবই এসব ঘটনার প্রধান কারণ।
বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন ও অদক্ষ মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে ফুটপাত দখল, অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল এবং হেলমেটবিহীন বাইক চালনাও সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শুধু জুলাই মাসেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অন্তত ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
স্থানীয় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের সময় সড়কে কোনো ট্রাফিক সদস্য থাকে না। শিশু-কিশোরদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। এটি দ্রুত সমাধান না হলে বড় বিপদ হবে।”
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “সড়ক নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। লাইসেন্সবিহীন চালক ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, অভিযান শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব মাঠপর্যায়ে জোরদার করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবিগুলো হলো—
দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকার আশপাশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ
অবৈধ যানবাহন বন্ধ ও চালকদের লাইসেন্স যাচাই
জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা
সচেতন মহলের মতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রায়পুরের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।