প্রতিনিধি, রায়পুর (লক্ষীপুর)
লক্ষীপুর রায়পুর-রামগঞ্জ সীমান্তবর্তী উপজেলার বন্ধককৃত স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় প্রবাসী স্বামীর ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করেছেন রুপা আক্তার (৩২) নামে এক নারী। সোমবার সকালে স্বামীর বসতঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।
নিহত রুপা রায়পুর রামগঞ্জ সীমান্তবর্তী উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের বাহারান প্রবাসী আলমগীরের স্ত্রী ও রায়পুর উপজেলার চরপাতা গ্রামের আব্বাস মিয়ার মেয়ে। প্রায় ১৩ থেকে ১৪ আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে ।
নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিবার স্বামীর দেওয়া বিশ হাজার টাকা বিকাশ থেকে তুলে বাড়ির পাশেই খরিদ করা সম্পত্তির মধ্যে লোকজন নিয়ে মাটি কাটার নিয়ে কাজ শুরু করেন। রাতে স্বামীর সাথে ফোনে (ইমুতে) কথা বলে আরও কিছু টাকা চাইলে ঘরের থাকা প্রায় তিন ভরি স্বর্ণ বন্দক দিয়ে টাকা নিতে বলেন স্বামী। কিন্তু স্বামীকে না জানিয়ে আরও তিন মাস আগেই ঘরে থাকার স্বামীর দেওয়া স্বর্ণ রুপা তার ভগ্নিপতিকে দিয়ে দেন। এতে ওই স্বর্ণ ফেরত আনতে ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর ও স্বামী আলমগীরের সাথে একপর্যায়ে আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাতেই অভিমানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্বামীর বসতঘরের আড়ায় ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন স্ত্রী। খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার ও সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
প্রবাসী আলমগীরের বড় ভাই ইসমাইল বলেন, নিহতের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রুপা আক্তার কি কারণে আত্মহত্যা করেছে আমরা জানি না। সকালে গিয়ে দেখি বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। তবে ছোট ভাইয আলমগীরের দেওয়া গয়না নিয়ে নিহত রুপার ভগ্নিপতির সাথে বেশ কয়েকবার ঝগড়াঝাটি হয়েছে।
রামগঞ্জ থানার এসআই মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়নতন্ত্র জন্য পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অপমৃত্যুর মামলা করা হবে।