মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :
লক্ষ্মীপুরের দুর্গম চরাঞ্চলে কাজল জাতের (শিংনাথ) বেগুন চাষে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও চরাঞ্চলের কৃষকেরা আধুনিক চাষপদ্ধতি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎকৃষ্ট মানের বেগুন উৎপাদনে নজির গড়ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার রামগতি, কমলনগর ও মেঘনা নদীঘেঁষা চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে সারি সারি কাজল (শিংনাথ) বেগুনের ক্ষেত। চকচকে কালচে রঙ, লম্বাটে আকৃতি ও নরম শাঁসের কারণে এ বেগুন বাজারে ব্যাপক চাহিদা পাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, অন্যান্য জাতের তুলনায় কাজল বেগুন রোগবালাই কম হয় এবং ফলনও তুলনামূলক বেশি।
চরের কৃষক আবদুল করিম জানান, “আগে চর এলাকায় চাষ করে লাভ হতো না। এখন কাজল বেগুন চাষ করে প্রতি মৌসুমে ভালো আয় হচ্ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা এসে ক্ষেত থেকেই বেগুন কিনে নিচ্ছেন।”
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চর এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কাজল (শিংনাথ) বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে চারা রোপণ, জৈব সার ব্যবহার ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে এ জাতের বেগুন থেকে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফলে চরাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই বেগুন চাষ।
স্থানীয় বাজারে কাজল বেগুনের দামও সন্তোষজনক থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দুর্গম চরাঞ্চলেও পরিকল্পিত কৃষিকাজ যে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে—লক্ষ্মীপুরের কাজল (শিংনাথ) বেগুন চাষ তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।