প্রদীপ কুমার রায়:
লক্ষ্মীপুরে তিনতলা একটি মার্কেটের ছাদ থেকে পড়ে মো. সিরাজ (১৯) নামে এক কলেজছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সিরাজ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পৌর শহরের লিল্লাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ট্রাকচালক ফারুক হোসেনের ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার নিউ মার্কেটের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন সিরাজ। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। রাত ৮টার দিকে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
এ ঘটনায় সিরাজের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়—তাকে পরিকল্পিতভাবে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় সিরাজ নিউ মার্কেটের ছাদে তার তিন বন্ধু—মোবারক, আল আমিন ও ফারুকের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ওই সময় তারা গাঁজা সেবন করছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এক পর্যায়ে সিরাজ ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা সিরাজের বন্ধু মোবারককে আটক করে নিউ মার্কেটের একটি দোকানে আটকে রাখে এবং মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মোবারককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। মোবারক রায়পুর উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ জানান, “ঘটনার সময় সিরাজসহ চার বন্ধু ছাদে আড্ডা এবং গাঁজা সেবন করছিলেন। সেখান থেকে সিরাজ নিচে পড়ে গিয়ে মারা যান। মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। সিরাজের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এদিকে, সিরাজের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাটি স্বাভাবিক নয়। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সঠিক তদন্ত না হলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা মনে হলেও, তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে।
একজন তরুণ শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু এবং বন্ধুর সংশ্লিষ্টতা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সত্য উদঘাটনে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ বিচার।