June 7, 2026, 10:17 pm
শিরোনাম:
রায়পুরে মাকে মারধরের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে রায়পুরে জনদুর্ভোগ নিরসনে মাঠে ইউএনও মেহেদী হাছান কাউছার নতুন প্রজন্মকে ফুটবল উপহার, মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা ছাত্রদল নেতা আব্দুল আল নোমানের রায়পুরে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় যুব রেড ক্রিসেন্ট শিশু ফারাবি হত্যার বিচারের দাবিতে রায়পুরে মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন রায়পুরে প্রতিবেশীর নির্যাতনে যমজ শিশু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন রায়পুরে উৎসবমুখর পরিবেশে অ্যাডভোকেট রফিক উল্যাহ সোহাগের কনিষ্ঠ পুত্রের আকিকা সম্পন্ন রায়পুরে সপ্তর্ষি কালচারারএকাডেমীর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান রায়পুরে সপ্তর্ষি কালচারারএকাডেমীর বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ‎রায়পুরে কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধের মৃত্যু
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগার এখন সংশোধনের আলোকিত কেন্দ্র

Reporter Name

মাহমুদুর রহমান মনজু
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দি থাকা সত্ত্বেও কঠোর শৃঙ্খলা, আধুনিক নজরদারি ও মানবিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে কারাগারটি এখন কেবল বন্দিশালা নয়, বরং অপরাধীদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের এক কার্যকর কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২৯৫ জন ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ বন্দি অবস্থান করছেন। বিপুল সংখ্যক বন্দির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুরো কারাগার এলাকা ২৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ডিজিটাল মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সাধারণত কারাগারে স্বজন সাক্ষাতে ভোগান্তি ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ শোনা গেলেও লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারে এর ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। সাক্ষাৎপ্রার্থীরা জানান, বর্তমানে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন হয় না। পরিবেশও আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুবিন্যস্ত। এক সাক্ষাৎপ্রার্থী বলেন, “আগে অনেক হয়রানির কথা শুনেছি, কিন্তু এখন কারাগারের পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়। কোনো বাড়তি টাকা ছাড়াই স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি।”
জামিনে মুক্ত হওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, কারাগারের খাবারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে এক মুক্ত আসামি বলেন, “কারাগারের খাবার হোটেলের খাবারের চেয়েও ভালো লেগেছে। ঘরের খাবারের মতো স্বাদ পেয়েছি।”
বন্দিদের মানসিক সুস্থতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে জেলার নূর মোহাম্মদ সোহেলের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে নানা সৃজনশীল কর্মসূচি। নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্দিদের বই পড়া, ধর্মীয় অনুশীলন এবং কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক প্রতিরোধে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলার নূর মোহাম্মদ সোহেল বলেন,
“কারা মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়মিত নির্দেশনা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো বন্দিদের শৃঙ্খলার মধ্যে রেখে সংশোধনের পথে এগিয়ে নেওয়া।”
জেল সুপার নজরুল ইসলাম জানান, কারাগারে শৃঙ্খলা বজায় রেখে বন্দিদের মানবিকভাবে সংশোধন করা এবং সমাজে ফিরে গিয়ে একটি সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা