প্রদীপ কুমার রায়, নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়পুর লক্ষ্মীপুর।
শীতের গভীর রাত। সময় তখন রাত ১টা ১৫ মিনিট। এমন সময় এ্যাডভোকেট শাকিলের সঙ্গে রায়পুর থানায় উপস্থিত হয় ঢাকার গাবতলীর একটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে আসা ১১ বছরের ছাত্র বেল্লাল। দুই দিন ধরে পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন এই কিশোরকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানবিক সিদ্ধান্ত নেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূইয়া।
শীতের রাতের কথা চিন্তা করে ওসি নিজাম ঠিক করেন—ছেলেটিকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে বেল্লাল জানায়, তার বাড়ি “মেইলগেট” এলাকায়। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ওসি মহোদয়ের নেতৃত্বে পুলিশ দল শিশুটির বাড়িটি শনাক্ত করেন। বহু প্রতীক্ষার পর সন্তানকে ফিরিয়ে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরিবারের স্বস্তির এই মুহূর্ত এবং শিশুটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পুরো ঘটনাটিই স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। এলাকায় এমন মানবিক উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনে যদি এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও পেশাদার অফিসারদের সংখ্যা বাড়ে, তবে সাধারণ মানুষ আরও বেশি নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পাবে। বিশেষ করে রাতের অস্থিরতায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়ে ওসি নিজাম আবির যেভাবে সাধারণ মানুষের মন জয় করেছেন—তা পুলিশ বাহিনীর ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে আরও দৃঢ় করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জনগণের পাশে থেকে মানবিক সেবা প্রদানকারী এমন অফিসারদের প্রাধান্য দিলে মাঠপর্যায়ের পুলিশিং আরও কার্যকর হবে।