প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ নিরসনে সড়ক দখল করে বসানো হকার ও ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের দোকান বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। বাজারের সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রায়পুর বাজারের সড়কে কোনো হকার কিংবা ভ্রাম্যমাণ ভ্যান বসিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করে কেউ সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘রায়পুরে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভ্যানের সারি, পথচারীদের দুর্ভোগ’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার অষ্টম পৃষ্ঠায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো এবং যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বাজারের যানজট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চলাচলের জায়গা দখল করে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ভ্যানের দোকান বসানো হচ্ছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বাজারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে অনেক সময় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, প্রতিনিয়ত যানজটে পড়তে হয়। বাজারের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় যেতে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করা যায় না। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই দুর্ভোগে পড়ছেন।
এক রোগী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে যেতে হলেও যানজটে অনেক সময় আটকে থাকতে হয়। অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ সময় যানবাহনে বসে থাকা খুবই কষ্টকর। বাজারের যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছারের বদলিজনিত ব্যস্ততার পর নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন নাহার যোগদানের পর বাজারের যানজট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু হকার উচ্ছেদ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজারের সুবিধাজনক কোনো স্থানে নির্দিষ্ট ব্যবসাকেন্দ্র বা জায়গা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবেন, পাশাপাশি বাজারের সড়কও দখলমুক্ত থাকবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্দেশনা জারির পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে পৌর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হকারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবসার স্থান নির্ধারণে উদ্যোগ নেওয়া হলে যানজট নিরসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, হকার ও সাধারণ মানুষের স্বার্থও রক্ষা পাবে।
প্রদীপ কুমার রায়
সংবাদদাতা, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
মোবাইল: 01712659510