প্রদীপ কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি:
যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ঘরে-ঘরে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা উদযাপিত হয়েছে। দুপুর থেকে উপজেলার বাড়িতে বাড়িতে দেবীর বন্ধনা শুরু হয়ে তা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পূর্ণিমা তিথি শুরু হয় ২৫ অক্টোবর রবিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। তিথি শেষ হয় ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে। পূজার্চনায় এ তিথি অনুসরণ করা হয়।
গাইয়ারচর গ্রামের পুরোহিত নিবাস চক্রবর্তী বলেন, সনাতন (হিন্দু) শাস্ত্র অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী সম্পদ, সৌভাগ্য, শক্তি, বিলাসিতা, সৌন্দর্য, উর্বরতা এবং মঙ্গলময়তার দেবী। তিনি প্রকৃতির সুন্দর এবং দানশীল দিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই দেবীর কৃপা লাভের আশায় রবিবার দুপুর থেকে লক্ষ্মীপূজা করা হবে। এ পূজা সাধারণত সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বজনীনভাবে খুব কম মন্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ওই পুরোহিত আরো বলেন, যারা তার অনুগ্রহের যোগ্য তাদের শক্তি, আনন্দ এবং সমৃদ্ধি দেন তিনি লক্ষ্মী দেবী। তার আশীর্বাদ পেতে, ভক্তকে অবশ্যই জীবনের আইনকে সম্মান করতে হবে ও অস্তিত্বের বিস্ময়কর প্রশংসা করতে হবে।
গৃহবধূ লিপিকা রাণী হাওলাদার বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে সনাতন (হিন্দু) নারীরা এ পূজা উদযাপন করেন। তাই আমরা এ উপলক্ষে সারাদিন উপবাস থাকব। গৃহের উপাসনার আসনে বেদীর মূর্তি/পট স্থাপন করব। লক্ষ্মীর পাশে থাকবে কলা বউ বা নারকেল বউ। ঘরের মেঝতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ও অল্পনা দেব। আলোকসজ্জায় পুরো ঘর আলোকিত করব । আমরা স্নান সেরে নতুন বা পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করে ঘরে বসে লক্ষ্মীর আরাধনা করব। গৃহবধূ নিপু রানী রায় বলেন, আমাদের বিশ্বাস লক্ষীদেবী দর্শনে সন্তুষ্ট হলে পরিবারে আর্থিক সমস্যা হবে না ও সংসারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। আমরা সারারাত জেগে উপবাস থেকে মায়ের পূজা করব। দেবী লক্ষ্মীর পূজার পর, মন্দির ও বাড়িতে অঞ্জলি দেওয়া হবে। সুরে সুরে নারীরা পড়বেন লক্ষ্মী পাঁচালী। এরপর তারা উপবাস ভেঙ্গে বিতরণ করবেন প্রসাদ।
শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী। তাই লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী। লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা।কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে ভক্ত গৃহে আসেন। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ সবাই দেবী লক্ষ্মীর পূজা দিয়ে আসছেন।
প্রদীপ কুমার রায়
সংবাদদাতা, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
মোবাইল: 01712659510