October 23, 2026, 2:22 am
শিরোনাম:
স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রীর আকুতি, এক বছরের শিশুর মাথার ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া সেবার হাত বাড়াতে রায়পুরে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের পরিচর্যা প্রশিক্ষণ কমলনগরে মেঘনা নদীতে মৎস্য অভিযান, ৭ জেলের কারাদণ্ড দাম্মাম বিমানবন্দরে ফের হামলা, নিহত ১, আহত অন্তত ৮ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালুর দিনেই নতুন করে উদ্বেগ রায়পুরে হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন মেডিকেল অফিসারসহ চার রোগী রায়পুরে বিরিয়ানির দোকানে ডিবির অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ রায়পুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া রায়পুরে দোকানের পিছন থেকে গাঁজার গাছ উদ্ধার, ব্যবসায়ী গ্রেফতার রায়পুর পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড যুব সংগঠনের ৩৯তম অনুদান প্রদান সম্পন্ন রায়পুরে বরই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে প্রকৃতি সেজেছে নবরূপে, বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখ‌ছেন কৃষক
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

অভিভাবকতূল্য মানুষ—জহির উদ্দিন ভূঁইয়া স্মরণে

Reporter Name

প্রদীপ কুমার রায়:
“পদু কি খাবি বল…”—ডাকবাংলার নিরালায় রাতভর আড্ডার শুরুটা এমন এক হাক দিয়েই করতেন জহির উদ্দিন ভূঁইয়া। সাংবাদিকতা শুধু তাঁর পেশা ছিল না, ছিল এক পরিপূর্ণ মানবিক চর্চা। রায়পুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সততা আর সহমর্মিতার প্রতীক এই মানুষটি আজও অসংখ্য সহকর্মীর হৃদয়ে অনির্বাণ স্মৃতি হয়ে জ্বলছেন।

২০১৯ সালের ১৩ মে এই দিনে চলে যান তিনি—একটি অনভূত শূন্যতা রেখে। কিন্তু তাঁর প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি উচ্চারণ আজও রায়পুরের বাতাসে ছড়িয়ে আছে, যেন মানুষটির প্রাণ এখনও ঘোরাফেরা করছে সেই পরিচিত গলিগুলোতে।

জহির ভূঁইয়া ছিলেন এক আশ্চর্য সমন্বয়: দৃঢ় মনোবল, কোমল হৃদয় আর নিরহংকারী বন্ধুত্বের প্রতীক। জুনিয়র বা সিনিয়র—এই বিভাজন তাঁর অভিধানে ছিল না। ছোটদের নাম ধরে ডাকতেন, পকেট থেকে টাকা বের করে বলতেন, “আগে খানা আন, পরে কথা”—এই হৃদয়খোলা আতিথেয়তায় মুখে হাসি ফুটত সবার। প্রেসক্লাব ছিল তাঁর পরিবারের মতো, আর সহকর্মীরা ছিলেন আপনজন।

এক সহকর্মীর পারিবারিক সমস্যায় যখন থানার ওসিকে ফোন করে বলেছিলেন, “তুমি থাকবা নাকি চইল্লা যাইতে চাও?”—তখন অনেকেই চমকে উঠেছিল তাঁর সরল কিন্তু দৃপ্ত কণ্ঠে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝে নিয়েছিল—এই তো জহির ভাই, যিনি সত্য ও সহমর্মিতার পক্ষে নির্ভয়ে দাঁড়ান, যিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হন না।

তাঁর হাস্যরস, ‘বিড়িটিড়ি’ খাওয়ার মজা করে তিরস্কার, কিংবা আড্ডার চূড়ান্ত মুহূর্তে “ধরা ধরা, আমার সামনেই ধরা” বলে চিৎকার—all were not just expressions, they were echoes of his warm, generous soul.

একটি সমাজের নেতৃত্ব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার কিছু মানুষ হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক, অভিভাবক। জহির উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন তেমনই একজন—যাঁর স্মৃতি প্রতিনিয়তই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ যদি হতে হয়, আগে মানুষ হতে হয়।
আজ তাঁর চিরবিদায়ের দিনে, রায়পুর প্রেসক্লাব, সহকর্মী, পরিবার—সবাই মিলে আবারও উচ্চারণ করছে সেই হৃদয়ছোঁয়া ডাক—
“পদু কি খাবি বল…”

তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। স্মৃতিতে তিনি চিরঞ্জীব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা