August 26, 2026, 7:41 pm
শিরোনাম:
রায়পুরের বাসাবাড়ি এলাকায় ভুয়া সেনাবাহিনী আটক, পুলিশের হেফাজতে রায়পুরে ৪০ বছর ধরে চা-পরাটার দোকান মিন্টুর লক্ষ্মীপুরে দুই করাতকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৫ হাজার টাকা জরিমানা রায়পুরে ৮ বছর ধরে ছোলা-বুট বিক্রি করে সংসার চালান সোলেমান গাজী ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রায়পুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু দাশেরহাটে নিউ তৃপ্তি বেকারিকে এক লাখ টাকা জরিমানা, জব্দ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস ‎রায়পুরে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট অভিযান রায়পুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা রায়পুর থানার উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

অভিভাবকতূল্য মানুষ—জহির উদ্দিন ভূঁইয়া স্মরণে

Reporter Name

প্রদীপ কুমার রায়:
“পদু কি খাবি বল…”—ডাকবাংলার নিরালায় রাতভর আড্ডার শুরুটা এমন এক হাক দিয়েই করতেন জহির উদ্দিন ভূঁইয়া। সাংবাদিকতা শুধু তাঁর পেশা ছিল না, ছিল এক পরিপূর্ণ মানবিক চর্চা। রায়পুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সততা আর সহমর্মিতার প্রতীক এই মানুষটি আজও অসংখ্য সহকর্মীর হৃদয়ে অনির্বাণ স্মৃতি হয়ে জ্বলছেন।

২০১৯ সালের ১৩ মে এই দিনে চলে যান তিনি—একটি অনভূত শূন্যতা রেখে। কিন্তু তাঁর প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি উচ্চারণ আজও রায়পুরের বাতাসে ছড়িয়ে আছে, যেন মানুষটির প্রাণ এখনও ঘোরাফেরা করছে সেই পরিচিত গলিগুলোতে।

জহির ভূঁইয়া ছিলেন এক আশ্চর্য সমন্বয়: দৃঢ় মনোবল, কোমল হৃদয় আর নিরহংকারী বন্ধুত্বের প্রতীক। জুনিয়র বা সিনিয়র—এই বিভাজন তাঁর অভিধানে ছিল না। ছোটদের নাম ধরে ডাকতেন, পকেট থেকে টাকা বের করে বলতেন, “আগে খানা আন, পরে কথা”—এই হৃদয়খোলা আতিথেয়তায় মুখে হাসি ফুটত সবার। প্রেসক্লাব ছিল তাঁর পরিবারের মতো, আর সহকর্মীরা ছিলেন আপনজন।

এক সহকর্মীর পারিবারিক সমস্যায় যখন থানার ওসিকে ফোন করে বলেছিলেন, “তুমি থাকবা নাকি চইল্লা যাইতে চাও?”—তখন অনেকেই চমকে উঠেছিল তাঁর সরল কিন্তু দৃপ্ত কণ্ঠে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝে নিয়েছিল—এই তো জহির ভাই, যিনি সত্য ও সহমর্মিতার পক্ষে নির্ভয়ে দাঁড়ান, যিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হন না।

তাঁর হাস্যরস, ‘বিড়িটিড়ি’ খাওয়ার মজা করে তিরস্কার, কিংবা আড্ডার চূড়ান্ত মুহূর্তে “ধরা ধরা, আমার সামনেই ধরা” বলে চিৎকার—all were not just expressions, they were echoes of his warm, generous soul.

একটি সমাজের নেতৃত্ব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার কিছু মানুষ হয়ে ওঠেন পথপ্রদর্শক, অভিভাবক। জহির উদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন তেমনই একজন—যাঁর স্মৃতি প্রতিনিয়তই আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষ যদি হতে হয়, আগে মানুষ হতে হয়।
আজ তাঁর চিরবিদায়ের দিনে, রায়পুর প্রেসক্লাব, সহকর্মী, পরিবার—সবাই মিলে আবারও উচ্চারণ করছে সেই হৃদয়ছোঁয়া ডাক—
“পদু কি খাবি বল…”

তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। স্মৃতিতে তিনি চিরঞ্জীব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা