আরিফ হোসেন রুদ্র ( রায়পুর, লক্ষ্মীপুর)
সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের জীবনযাত্রা ও রান্নার ধরন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন অধিকাংশ খাবারের দোকানে গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক স্টোভসহ নানা আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। তবে আধুনিকতার এই স্রোতেও নব্বই দশকের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের একটি পুরোনো চায়ের দোকান। আজও সেখানে জ্বলছে লাকড়ির চুলা।
রায়পুর পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোডের মাছ বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত দোকানটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘বড় মিয়ার দোকান’ নামে। দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানে লাকড়ির চুলায় তৈরি করা হচ্ছে চা। পুরোনো সেই স্বাদ নিতে এখনো নিয়মিত ভিড় করেন স্থানীয় ক্রেতারা।
দোকানটির বর্তমান দায়িত্বে রয়েছেন মিন্টু হোসেন। বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা দোকানটির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে আশপাশের অনেক কিছু বদলে গেলেও দোকানের পুরোনো পরিবেশ ও লাকড়ির চুলায় চা তৈরির ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন মিন্টু।
মাছ বাজারের পাশে হওয়ায় প্রতিদিনই এ এলাকায় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা থাকে। তাদের অনেকের কাছেই ‘বড় মিয়ার দোকান’ শুধু একটি চায়ের দোকান নয়; বরং এটি পুরোনো রায়পুরের স্মৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অংশ।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, নব্বই দশক থেকে চলে আসা এই দোকানের লাকড়ির চুলায় তৈরি চায়ের মধ্যে রয়েছে আলাদা স্বাদ ও আকর্ষণ। আধুনিকতার ভিড়ে এমন একটি পুরোনো দোকান এখনো টিকে থাকাকে তারা রায়পুরের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখছেন।
মিন্টু হোসেন বলেন, “বাপ-দাদার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু আধুনিক হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর এই পুরোনো ঐতিহ্যের জায়গাটি ধরে রাখাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।”
রায়পুরের ব্যস্ত পোস্ট অফিস রোডে তাই এখনো দেখা মেলে নব্বই দশকের সেই চেনা দৃশ্য—লাকড়ির আগুনে জ্বলছে চুলা, উঠছে ধোঁয়া, আর সেই আগুনে তৈরি হচ্ছে চায়ের পুরোনো স্বাদ। আধুনিকতার ভিড়েও ‘বড় মিয়ার দোকান’ যেন ধরে রেখেছে রায়পুরের হারিয়ে যেতে বসা এক টুকরো ঐতিহ্য।