রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ঐক্যের অভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। স্থানীয় সাংবাদিক মহল মনে করছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা না থাকলে সাংবাদিকতার মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলায় বর্তমানে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় ১০০ জন আরো অধিক সংখ্যক সাংবাদিক রয়েছে। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ অনুপস্থিত।
নিজেদের মধ্যে বিভাজন, দলাদলি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সাংবাদিকদের প্রতি আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে।
সিনিয়র ও জুনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে টানাপোড়েন এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় কিছু সিনিয়র সাংবাদিক নিজেদের অভিজ্ঞতার জোরে কর্তৃত্ববাদী আচরণ করেন, যা নবীন সাংবাদিকদের হতাশ করে তুলছে।
ফলে অনেক তরুণ সাংবাদিক সিনিয়রদের এড়িয়ে চলছেন এবং পারস্পরিক সমালোচনার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে সাংবাদিক সমাজে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতা ছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়।ঐক্যের অভাবে সাংবাদিক সমাজের বিশ্বাসযোগ্যতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, যা পুরো সাংবাদিকতা পেশার জন্যই উদ্বেগজনক।
সিনিয়ররা যদি নবীনদের মূল্যায়ন করেন, তাদের পাশে দাঁড়ান এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন, তাহলে সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ প্রতিরোধে সাংবাদিকরা আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবেন। সংবাদকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বাড়াতে সবাইকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
ভালোবাসা পেতে হলে সবাইকে আপন করে নিতে হবে। দয়া করে কেউ এই কথাগুলো নেতিবাচকভাবে নেবেন না।”
সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। সেই দর্পণে যদি বিভেদ, হিংসা ও প্রতিহিংসা ভর করে, তবে সংবাদপেশার প্রতি মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাবে। রায়পুরে সাংবাদিক সমাজে ঐক্যের নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।