April 30, 2026, 2:43 am
শিরোনাম:
জীবীত ফেরা হ‌লো না দে‌শে ওমান প্রবাসী বেলালের! মারা গে‌লেন এয়ার‌পো‌র্টেই রায়পুরে তিন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: রায়পুরে খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন, জেলা পর্যায়ে তালিকা (প্রেরণ) পরীক্ষা‌কে‌ন্দ্রে তীব্র গ‌র‌মে নি‌র্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়ার জন‌্য ৮‌টি ফ‌্যা‌ন উপহার দেন রায়পুর উপ‌জেলা নির্বাহী অ‌ফিসার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনা: ২ বৌদ্ধ ভিক্ষুসহ নিহত ৩ রায়পুরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছির বেপারী রায়পুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত দক্ষ কৃষকই হবে আগামীর সফল উদ্যোক্তা : কৃষিবিদ জহির আহমেদ রায়পুরে গভীর রা‌তে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাদক বি‌রোধী অ‌ভিযান! ৩ মাদক‌সেবী‌কে কারাদন্ড এল‌পি‌জি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা সরকা‌রের
নোটিশ :
বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ০১৬২৪৩০৪৪৪৭ সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। যোগাযোগ ০১৭৭৯০৫৫১১১

বজ্রপাত থে‌কে নিরাপদ থাক‌তে যা কর‌তে হ‌বে

Reporter Name

বজ্রপাত থে‌কে নিরাপদ থাক‌তে যা কর‌তে হ‌বে

এখন বর্ষার সময়, এসময় দে‌শে বৃ‌ষ্টিপাত হ‌য়ে থা‌কে। বাংলা‌দেশে বর্ষ মৌ‌সিু‌মে প্রায়ই বৃ‌ষ্টি হ‌য়ে থা‌কে ত‌কে বৃ‌ষ্টির সা‌থে র‌য়ে‌ছে বিপ‌ত্তি। আর সে‌বিই প‌ত্তি‌টি হল বজ্রপাত। আজ ক‌য়েক বছছরর বর্ষায় বাংলা‌দে‌শে প্রচুর বজ্রপাত হ‌য় এবং বজ্রপাতে দে‌শের বি‌ভিন্ন আঞ্চ‌লে প্রচুর মানুষ মারা যায়। অ‌তি‌রিক্ত বজ্রপাতে ক্ষ‌তিগ্রস্থ হয় ফসল, বড় বড় গাছ এবং বজ্রপা‌তে মানু‌ষের মৃত‌্যুর হার বে‌ড়ে‌ছে।

বজ্রপাত থে‌কে নিরপদ থাকার জন‌্য আমা‌দের যা যা কর‌তে হ‌বেঃ

১. দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নিন

ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে কোনো অবস্থাতেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা যাবে না। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো একটি পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নিতে পারলে।

২. উঁচু গাছপালা ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকুন

কোথাও বজ্রপাত হলে উঁচু গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটিতে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এসব স্থানে আশ্রয় নেবেন না।

খোলা স্থানে বিচ্ছিন্ন একটি যাত্রী ছাউনি, তালগাছ বা বড় গাছ ইত্যাদিতে বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি থাকে।

৩. জানালা থেকে দূরে থাকুন

বজ্রপাতের সময় বাড়িতে থাকলে জানালার কাছাকাছি থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন এবং ঘরের ভেতর থাকুন।

৪. ধাতব বস্তু স্পর্শ করবেন না

বজ্রপাত ও ঝড়ের সময় বাড়ির ধাতব কল, সিঁড়ির রেলিং, পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না।
এমনকি ল্যান্ড লাইন টেলিফোনও স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাতের সময় এগুলো স্পর্শ করেও বহু মানুষ আহত হয়।

৫. বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থেকে সাবধান

বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগযুক্ত সব যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি বন্ধ করা থাকলেও ধরবেন না। বজ্রপাতের আভাষ পেলে আগেই এগুলোর প্লাগ খুলে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করুন। অব্যবহৃত যন্ত্রপাতির প্লাগ আগেই খুলে রাখুন।

৬. গাড়ির ভেতর থাকলে…

বজ্রপাতের সময় গাড়ির ভেতরে থাকলে সম্ভব হলে গাড়িটি নিয়ে কোনো কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন। গাড়ির ভেতরের ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। গাড়ির কাচেও হাত দেবেন না।

৭. খোলা ও উঁচু জায়গা থেকে সাবধান

এমন কোনো স্থানে যাবেন না, যে স্থানে আপনিই উঁচু। বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা বড় মাঠে থাকলে তাড়াতাড়ি নিচু হয়ে যান। বাড়ির ছাদ কিংবা উঁচু কোনো স্থানে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে যান।

৮. পানি থেকে সরুন

বজ্রপাতের সময় আপনি যদি ছোট কোনো পুকুরে সাঁতার কাটেন বা জলাবদ্ধ স্থানে থাকেন তাহলে সেখান থেকে সরে পড়ুন। পানি খুব ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী।

৯. পরস্পর দূরে থাকুন

কয়েকজন মিলে খোলা কোনো স্থানে থাকাকালীন যদি বজ্রপাত শুরু হয় তাহলে প্রত্যেকে ৫০ থেকে ১০০ ফুট দূরে সরে যান। কোনো বাড়িতে যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সবাই এক কক্ষে না থেকে আলাদা আলাদা কক্ষে যান।

১০. নিচু হয়ে বসুন

যদি বজ্রপাত হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ রাখুন। কিন্তু মাটিয়ে শুয়ে পড়বেন না। মাটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

১১. বজ্রপাতের আগ মুহূর্তের লক্ষণ জানুন

আপনার উপরে বা আশপাশে বজ্রপাত হওয়ার আগের মুহূর্তে কয়েকটি লক্ষণে তা বোঝা যেতে পারে। যেমন বিদ্যুতের প্রভাবে আপনার চুল খাড়া হয়ে যাবে, ত্বক শিরশির করবে বা বিদ্যুৎ অনুভূত হবে। এ সময় আশপাশের ধাতব পদার্থ কাঁপতে পারে। অনেকেই এ পরিস্থিতিতে ‘ক্রি ক্রি’ শব্দ পাওয়ার কথা জানান। আপনি যদি এমন পরিস্থিতি অনুভব করতে পারেন তাহলে দ্রুত বজ্রপাত হওয়ার প্রস্তুতি নিন।

১২. রবারের বুট পরুন

বজ্রপাতের সময় চামড়ার ভেজা জুতা বা খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। এ সময় বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবারের জুতা সবচেয়ে নিরাপদ।

১৩. বাড়ি সুরক্ষিত করুন

আপনার বাড়িকে বজ্রপাত থেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। এজন্য আর্থিং সংযুক্ত রড বাড়িতে স্থাপন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নিতে হবে। ভুলভাবে স্থাপিত রড বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

১৪. বজ্রপাতে আহত হলে

বজ্রপাতের সময় আশপাশের মানুষের খবর রাখুন। কেউ আহত হলে বৈদ্যুতিক শকে আহতদের মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসককে ডাকতে হবে বা হাসপাতালে নিতে হবে। একই সঙ্গে এ সময় বজ্রাহত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ বিষয়ে প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা