আবু মুসা মোহন, বিশেষ প্রতিনিধি:
বান্দরবানের মতো একটি পাহাড়ি জনপদে, যেখানে নানা জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন, সেখানে আবারও ফুটে উঠল মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
গত ১৮ জুলাই ২০২৬, বান্দরবান বাজারের রূপালী ব্যাংকের পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা স্বামীর নির্যাতনের শিকার এক অসহায় মুসলিম নারী গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আশপাশে অনেক মানুষের উপস্থিতি থাকলেও সবার আগে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন মারমা সম্প্রদায়ের নারী ম্রানুচিং মারমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত নারীর বাড়ী হাফেজ ঘোনা শারীরিক অবস্থা দেখে তিনি এক মুহূর্তও দেরি করেননি। নিজ উদ্যোগে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি বান্দরবান থানায় অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বান্দরবান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং নির্যাতিত নারীকে নিরাপত্তার আওতায় নেয়।
ঘটনাটি স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। তাদের ভাষ্য, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ধর্ম, জাতি বা ভাষা নয়—তার মানবিকতা। বিপদের মুহূর্তে একজন মারমা নারী যেভাবে এক মুসলিম নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা আলোচনার মধ্যেও এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, পাহাড়ের মানুষ এখনো মানবতার বন্ধনে একে অপরের আপন। ম্রানুচিং মারমার এই সাহসী ও মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন নির্যাতিত নারীকে সহায়তা করেনি, বরং সমাজে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বাঙালি-মারমা সম্প্রীতির এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত সমাজে আরও ছড়িয়ে পড়ুক এটাই এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা।