নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামীকাল শনিবার (৭ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলিকে স্মরণ করে প্রতিবছর দিবসটি পালন করে আসছে বিএনপি। তবে ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় দিবসটির রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ ছিল। চলতি বছর সরকার পুনরায় দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা তৈরি হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়। ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে সেনাসদস্যদের একটি অংশ তাঁকে মুক্ত করে। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল সকাল ৬টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত এবং বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে শোভাযাত্রা বের করার কথা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসছে।